রাজাপুর উপজেলার নৈকাঠী বাজারে চাঁদা না দেওয়ায় এক কাঁচামাল (সবজি) ব্যবসায়ীকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শনিবার (৭ মার্চ) রাজাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী মো. আল-আমীন উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং নৈকাঠী এলাকার মোকসেদ আলী হাওলাদারের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাওদুদ সিকদার ওরফে মনু সিকদারের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। অভিযুক্ত মাওদুদ সিকদার ওরফে মনু সিকদার একই এলাকার বেলায়েত সিকদার (তোতা সিকদার)-এর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে থাকে।
স্থানীয় নুরুজ্জামানসহ কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. আল-আমীনসহ একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সময় চাঁদা আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে ওই চক্রের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মো. আল-আমীন জানান, কিছুদিন আগে মনু সিকদারের লোকজন তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে বাজারে তার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যস্থতায় বাধ্য হয়ে তিনি ১০ হাজার টাকা দেন।
তিনি আরও জানান, গত বুধবার (৪ মার্চ) আবারও তার কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর জেরে ওই দিন সকালে নৈকাঠী বাজারে মনু সিকদারসহ কয়েকজন তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আল-আমীনের দাবি, একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মনু সিকদার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবলসহ তার বসতবাড়ি এবং বড় ভাই শহিদুলের বাড়িতে হামলা চালায়।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মাওদুদ সিকদার ওরফে মনু সিকদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই এবং কারো কাছ থেকে চাঁদা নেই না।”
এ বিষয়ে মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


